মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

অন্যান্য

লক্ষ্মীপুর জেলার শিক্ষার সার্বিক চিত্র যথেষ্ট সন্তোষজনকএ জেলার শিক্ষার হার ৬২..২৬% শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: সরকারী কলেজ ৫, বেসরকারী ১৬, আইন কলেজ ১, হোমিও ১, সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ৩, বেসরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ১৬৭, নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৪, মাদ্রাসা ১৩৬, প্রাইমারী টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ১, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৫১২, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৪৫, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২, মক্তব ২৪০, স্যাটেলাইট বিদ্যালয় ৩৫, কম্যুনিটি বিদ্যালয় ২৮

 

প্রাচীন ও সুখ্যাত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম হল- লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ (প্রতিষ্ঠা ১৯৬৪), লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়(১৮৮৬), লক্ষ্মীপুর আলীয়া মাদ্রাসা (১৮৭২), রায়পুর এল.এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১১), রায়পুর আলীয় মাদ্রাসা (১৮৮৬), চন্ডীপুর মনসা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯২৪), রামগতি বি.বি.কে পাইলট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৩৩), দালাল বাজার এন.কে উচ্চ বিদ্যালয় (১৯২৪),লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৯৯), রামগঞ্জ সরকারি কলেজ (১৯৬৭), প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (১৯৫৩)


 

প্রাথমিক শিক্ষা: ইংরেজ আমল শুরুর দিকে হিন্দুদের প্রাথমিক শিক্ষার জন্য পাঠশালা ও মুসলমানদের জন্য মক্তব ছিলপরে মাদ্রাসা ও টোল প্রতিষ্ঠিত হয়মাদ্রাসা অবস্থাপন্ন লোকের বৈঠকখানা বা শিক্ষকের নিজ বসতোমুদ্রিত বই ছিলনাশ্লেট- পেন্সিল, তালপাতা বা বিচি কালা পাতায় লেখা পড়া হতোএসব শিক্ষালয়ে সাধারণত: একজন শিক্ষক থাকতেনতাদের সহায়তার জন্য অগ্রগ্রামী শিক্ষার্থী নির্ধারণ করা হতোতা শিক্ষকের পারিবারিক ও বৈষয়িক কাজ- কর্মে আত্ম নিয়োগ করতোপ্রাথমিক শিক্ষা প্রাচীন পরিচিতি নিয়ে যে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো এখনো স্বনামে টিকে আছেসেগুলোর মধ্যে ১৮১০ সাল উত্তর মজুর প্রাথমিক বিদ্যলয় ১৮৩৮ সালে বিজয় নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৮৮৭ সালে লক্ষ্মীপুর টাউন প্রাথমিক বিদ্যালয়১৮৯৫ সালে আবিরনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৯০৪ সালে দক্ষিণ খাগুড়িয়া পন্ডিতের হাট প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৮১৫ সালে মান্দারী সিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৯২৪ সালে রামগঞ্জের চন্ডিপুর ও মনসা প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৯৩৪ সালে প্রতাপগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৯৩৫ সালে রামগতির তোরাগঞ্জ উত্তর চর পাগলা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সদরের আহম্মদ উল্যাহ প্রাথমিক বিদ্যালয় (বর্তমানে কামান খোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়) ১৯৩৭ সালে রায়পুর লুধুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১৯৪০ সালে কেরোয়া ছবিলপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়

 

১৯৪৭ সালের পরে নতুন উদ্যেগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পায়১৯৬০ সালের পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর স্থাপিত হলে এর সংখা আরো বৃদিধ পায়মেধাভিত্তিক বৃত্তি প্রদান, শিক্ষকদের ডিএ বৃদ্ধি ও স্কুল উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়নের ফলে ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যাও বাড়তে থাকেবাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিপুল পরিমান ছাত্র-ছাত্রী বাড়ে১৯৯৫ সালে সরকার কমিউনিটি বিদ্যালয় স্থাপন করেশর্ত অনুযায়ী জনগন ভূমি দান করলে সরকার বিদ্যালয়ের পাকা ভবন নির্মাণ করে দেয় এবং শিক্ষক নিয়োগ ও সম্মানী ৫০০/- টাকা হারে প্রদান করে এছাড়া ১৯৯৫ সালে কোন বিশেষ এলাকার শিশুদের শিক্ষার দিকে ফিরিয়ে আনতে স্যাটেলাইট বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়গ্রামীণ বাড়ীর কাছারী ঘরে এ বিদ্যালয় চালানো হয়এখানে ইউএনওদের মাধ্রমে সরকারী ভাবে শিক্ষক নিয়োগ ও ৫০০/- টাকা শিক্ষক সম্মানী দেয়া হয়জানুয়ারী ২০০৪ সাল থেকে স্যাটেলাইট বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে আছেলক্ষ্মীপুর শহরের প্রাচীনতম কেজি ধরণের স্কুল ‘ত্রিধারা শিশু নিকেতন’ প্রতিষ্ঠিত হয়পরবর্তীতে আরো বহু কেজি স্কুল গড়ে উঠেছেএদের সিলেবাস,শিক্ষাদান কর্মসূচী ও শিক্ষার গুণগত মান ভিন্ন ভিন্ন ধরণের

 

সবার জন্য শিক্ষা শিক্ষিত করতে সরকারী ১৯৯০ সালে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করলে লক্ষ্মীপুর জেলায জেলা প্রশাসক,ইউএনও পৌর ও ইউপি চেয়ারম্যান, কমিশনার ও সদস্যদের নেতৃত্বে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও স্কুল শিক্ষকগণসহ স্থানীয় পর্যায়ে গণ্যমান্য ও বিশিষ্ট বিদ্যুৎসাহী ব্যক্তিবর্গকে সম্পৃক্ত করা হয়এছাড়া স্কুলগুলোর ব্যবস্থাপনায় মাননীয় সংসদ সদস্যগণকে উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়ফলে স্কুলগুলোতে ভর্তি সংখ্যা বেড়ে যায়সকল শিশুর ভর্তি নিশ্চিত করা হয় এবং ঝরে পড়ার সংখ্যাও কমতে থাকে

 

মাদ্রাসা শিক্ষা: লক্ষ্মীপুর ইসলাম ধর্ম প্রচারক বাদশা, দরবেশ, পীর, সুফিগণের আগমন, খানকাহ ও মসজিদ প্রতিষ্ঠার সাথে ধর্মীয় প্রয়োজনে প্রাথমিক শিক্ষা তথা মক্তব ও মাদ্রাসা স্থাপন একই সূত্রে গাঁথা্ তৎকালে জুনিয়র ও এবতেদায়ী মাদ্রাসা আজকের প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাগুলোর অতীব ইতিহাসসেগুলো হচ্ছে ১৮৫৭ সালে লক্ষ্মীপুর আলিযা মাদ্রাসা, ১৮৭০ সালে রায়পুর আলিয়া মাদ্রাসা, ১৯০০ সালে হাজির হাট মাদ্রাসা, ১৯০৪ সালে ভবানীগঞ্জ মাদ্রাসা, ১৯১০ সালে গন্ধব্যপুর মাদ্রসা, ১৯২১ সালে টুমচর মাদ্রাসা, ১৯২৪ সালে ফরাশ গঞ্জ ফয়েজ আম মাদ্রাসা, ১৯২৫ সালে কামান খোলা মাদ্রাসা, ১৯২৮ সালে হায়দরগঞ্জ তাহিদিয়া মাদ্রাসা, ১৯২৮ সালে যাদৈয়া মাদ্রসা, ১৯৪৭ সালে রামগতি রাববানিয়া মাদ্রাসা, ১৯৫২ সালে ফতেহপুর মাদ্রাসা, ১৯৬৪ সালে রামগঞ্জ আলি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়বসিক পুর মাদ্রসাও একটি পুরাতন মাদ্রাসা

 

মাধ্যমিক শিক্ষাঃ ১৯৭০২-১৮৭২ সালে লক্ষ্মীপুরে মুন্সেফী আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়এ আদালতের মুন্সেফ ও আইনজীবিগনের উদ্যেগে ১৮৮৭ সালে জেলার প্রাচীনতম মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়লক্ষ্মীপুর শহরের জুবীলী দিঘীর উত্তর পাড়ে লক্ষ্মীপুর মিশন হাই ইংলিশ স্কুল নামে বিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয়এর পুবৈ সদর উপজেলার ফরাশগঞ্জে মাধ্যমিক শিক্ষার ব্যবস্থা ছিল বলে জানা যায়বিংশ শতাব্দীর শুরুতে লক্ষ্মীপুর জেলায় স্বদেশী ভাষার সাথে ইংরেজী ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব দিয়ে ৪/৫টি উচ্চ বিদ্যালয় ও ১০/১৫টি জুনিয়র বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়

 

১৯৪৭ সালের পর জুনিয়র বিদ্যালয়গুলো উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয় এবং নতুন নতুন আরো উচ্চ বিদ্যালয় ও জুনিয়র বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়১৯৪৭ এর পূর্বে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়য় এবং পরে পূর্ব বাংলা/পূর্ব পাকিস্তান মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা’র অধীনে মেট্রিকুলেশন পরীক্ষায় নোয়াখালী গিয়ে অংশগ্রহণ করতে হতো১৯৬৩ সালে কুমিলা বোর্ড স্থাপিত হলে লক্ষ্মীপুরে এস এস সি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়স্বাধীনতার পূর্বে লক্ষ্মীপুর জেলায ৪০/৪৫টি উচ্চ বিদ্যালয় ও ১০/১৫টি জুনিয়র বিদ্যালয় ছিল বলে জানা যায়

 

১৯৯৪ সাল থেকে জেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নারী শিক্ষা উন্নয়নে মাধ্যমিক স্তরের ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প এর অধীনে উপবৃত্তি প্রদান চালু হয়৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত যথাক্রমে ২৫/৩০/৩৫/৬০ টাকা হারে মাসিক বৃত্তির টাকা ছয় মাস অন্তুর প্রদান করা হয়এছাড়া নবম শ্রেণীর বই কেনার জন্য ২৫০ এবং এসএসসি ফরম ফিলাপ এর জন্য ৪৩০ টাকা দেওয়া হয়৭৫% ক্লাসে উপস্থিত,৪৫% নম্বর প্রাপ্তি ও অবিবাহিত সকল ছাত্রীদের উপবৃত্তির টাকা দেওয়া হলেও ২০০৩ সালের শেষের দিকে এদের মধ্যে প্রায় ৫০% ছাত্রীকে দেওয়া হচ্ছে

 

উচ্চ শিক্ষাঃ লক্ষ্মীপুর জেলায় উচ্চ শিক্ষার ইতিহাস খুব একটা পুরোনো নয়১৯৬৪ সালে লক্ষ্মীপুর সরকারী কলেজ, ১৯৬২ সালে রামগঞ্জ সরকারী কলেজ, ১৯৬৯ সালে দত্তপাড়া ডিগ্রি কলেজ, ১৯৭০ সালে রায়পুর সরকারী কলেজ ও আলেকজান্ডার আ স ম আবদুর রব সরকারী কলেজ, এবং ১৯৭২ সালে চন্দ্রগঞ্জ কফিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়নারীদের উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্যে ১৯৮৪ সালে লক্ষ্মীপুর সরকার মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়সবগুলো কলেজ স্থানীয় উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা পায়৮০ ও ৯০ দশকের কলেজগুলো সরকারীকরণ করা হয় এবং আরো নতুন নতুন কলেজ স্থাপিত হয়জেলার প্রায় সবকটি কলেজ ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীত হয়েছেলক্ষ্মীপুর সরকারী কলেজ ১৯৯৬ সালে তিনটি বিষয়ে (রাষ্ট্র বিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা) অনার্স এবং ১৯৯৯ সালে ঐ বিষয়সমূহে মাষ্টার্স কোর্স খোলা হয়পরবর্তিতে আরো ০৫ টি বিষয়ে ( অর্থনীতি, গণিত, ইসলাম শিক্ষা, হিসাব বিজ্ঞান ও পদার্থ বিজ্ঞান) অনার্স কোর্স খোলা হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পূর্বে কলেজসমূহ ডিগ্রি কোর্স চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল

 

ক্রমিক নং

বিবরণ

সংখ্যা

০১.

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

৫১২ ‍টি

০২.

রেজিষ্টার্ড বেসরকারী প্রাখমিক বিদ্যালয়

১৯৭ টি

০৩.

কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়

০৩ টি

০৪.

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক

৩,০৮৯ টি

০৫.

রেজিষ্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক

৭৭৯ টি

০৬.

কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক

১২ টি

০৭.

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য পদ

১১০ টি

০৮.

রেজিষ্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য পদ

৪৫ টি

০৯.

কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য পদ

০২ টি

 

৫+ হতে ১০+ বয়সী শিশুর সংখ্যা

৫+ হতে ১০+ বসয়ী ভর্তিকৃত শিশুর সংখ্যা

নীট ভর্তির হার

৩,২০,৪৪৫ জন

৩,২০,১৬০ জন

৯৯.৯০%